সাকিল আহমেদ অরণ্য, বার্তা সম্পাদক, প্রবাসীপত্র.কম
নতুন শ্রমবাজার তৈরিতে ২৬ দেশে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রচলিত শ্রমবাজারের বাইরে এই ২৬টি দেশে গত বছর মোট আট হাজার ৫২২ জন বাংলাদেশি কর্মী গেছেন। বাংলাদেশ এসব দেশকেও শ্রমবাজার হিসেবে গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। সরকার মনে করছে, কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে এসব দেশে জনশক্তি রপ্তানি বাড়বে।
২০১১ সালে বাংলাদেশের প্রচলিত শ্রমবাজারের বাইরে সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছেন মরিশাসে, পাঁচ হাজার ৩৫৩ জন। অন্যান্য দেশের মধ্যে আলজেরিয়ায় ৯৮৬, পাপুয়া নিউগিনিতে ৪৪৩, আফগানিস্তানে ৮৬, ইয়েমেনে ৩২১, ভুটানে ২৭৪, ইরাকে ২৩৪, সিসিলিসে ২১০, সাইপ্রাসে ১৬০, বতসোয়ানায় ১৩, বুরুন্ডিতে ২৫, কম্বোডিয়ায় ২, ক্যামেরুনে ৩, কানাডায় ৩২, জিবুতিতে নয়, ইকুয়েডরে চারজন, ঘানায় ২১, গ্রিসে ২০, হংকংয়ে ২৫, লিবিয়ায় ৮৯, শ্রীলঙ্কায় ৬০, সুদানে ৭৯, তানজানিয়ায় ৭, থাইল্যান্ডে ১২, তিউনিসিয়ায় পাঁচজন এবং গেছেন।
বিএমইটির পরিচালক (বহির্গমন) সেলিম রেজা প্রবাসীপত্রকে জানান, ‘প্রচলিত শ্রমবাজারের বাইরে এই ২৬টি দেশকে বাংলাদেশ নতুন শ্রমবাজার মনে করছে। নতুন শ্রমবাজার তৈরিতে সরকার এসব দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াচ্ছে।’
এদিকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানাযায়, এই ২৬টি দেশ ছাড়াও জাপান, তাইওয়ান, ইতালি, বেলজিয়াম, জার্মানি, স্পেন, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, পোল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের শ্রমবাজার সম্পর্কেও সরকার খোঁজখবর নিচ্ছে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও এসব শ্রমবাজারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে বাংলাদেশের প্রচলিত শ্রমবাজারে মোট পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কর্মী ১০০ দেশে গেছেন। এর সংযুক্ত আরব আমিরাতে মধ্যে দুই লাখ ৮২ হাজার ৭৩৪ জন, ওমানে এক লাখ ৩৫ হাজার এবং সিঙ্গাপুরে ৪৮ হাজার ৬৬৬ জন কর্মী গেছেন।
এদিকে জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিত্রুদ্ধটিং এজেন্সিসের (বায়রা) মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘নতুন শ্রমবাজার খোঁজার চেষ্টা অবশ্যই প্রশংনীয় তবে আমাদের প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার। তাই এই বাজারগুলির সম্পর্কে আরও বেশী সতর্ক হতে কবে। কুটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে। কারণ এই বাজারগুলোর ওপরই নির্ভর করে জনশক্তি রপ্তানি খাতের ভবিষ্যৎ।
বায়রা মহাসচিব আরো জানান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও কুয়েতে জনশক্তি রপ্তানি প্রায় বন্ধ। তিনি এই বাজারগুলি চালুর জন্য সরকারকে কুটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর অনুরোধ জানান এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বাত্মক আহবান জানান।
প্রবাসীপত্রডটকম/এসএ/আমা.


